Sobujbangla.com | বড় দলগুলোর প্রচারণার সূচনা ঘটে সিলেট থেকে কেন,।
News Head
 গণভোটে পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের আইনগত বাধা নেই: আলী রীয়াজ। র‌্যাব, হবিগঞ্জে পরিত্যক্ত এয়ারগান উদ্ধার,। চোরাই পথে আনা ভারতীয় কমলা জব্দ, আটক ২, ৩ শর্তে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি। বড় দলগুলোর প্রচারণার সূচনা ঘটে সিলেট থেকে কেন,। বিশেষ দুই দলকে প্রাধান্য দিচ্ছে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা: মির্জা আব্বাস বলেন। এদেশের মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে: উপদেষ্টা। আরেক শুটার গ্রেপ্তার, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যায় । আর্থিক ক্ষতি হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের। অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, নারীসহ গ্রেফতার ৩,

বড় দলগুলোর প্রচারণার সূচনা ঘটে সিলেট থেকে কেন,।

  |  ১২:৩৭, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

সিলেটকে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী বলা হয়।
দেশের জাতীয় রাজনীতিতে একটি দৃশ্য প্রায় নিয়মিত। নির্বাচন সামনে এলেই বড় দলগুলোর প্রচারণার সূচনা ঘটে সিলেট থেকে। বিএনপি হোক বা আওয়ামী লীগ, অতীতে প্রায় সব জাতীয় নির্বাচনের আগে সিলেট আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে।
প্রশ্ন হলো, কেন নির্বাচনী যাত্রা বারবার সিলেট থেকেই শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এর পেছনে একাধিক ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও কৌশলগত কারণ কাজ করছে।
প্রথম কারণ হিসেবে উঠে আসে ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক রেওয়াজ। স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় রাজনীতির বড় বড় অধ্যায়গুলোর সূচনা হয়েছে সিলেটকে কেন্দ্র করে,।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও নেতারা বহু বছর ধরে নির্বাচনের প্রচার শুরু করতেন সিলেট থেকে। ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে এ অঞ্চলে তাদের প্রথম রাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান তার সময় থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার ক্ষেত্রে সিলেটকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পরে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে সব নির্বাচনে সিলেটকে সূচনাস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই ঐতিহ্যের কারণে দলের পরবর্তী নেতৃত্ব সেই ধারাই অনুসরণ করেছে। এই রেওয়াজ এখন দলীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে,।

দ্বিতীয় বড় কারণ হলো ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব। সিলেটকে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী বলা হয়। হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের ধর্মীয় আবেগ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে। অনেক রাজনৈতিক নেতা মনে করেন, প্রচারণার শুরুতে এখানে মাজার জিয়ারত করলে তা শুভ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং জনমনে ইতিবাচক বার্তা যায়,।

তৃতীয় কারণ হলো রাজনৈতিক প্রতীকী মূল্য। সিলেট থেকে প্রচারণা শুরু করার অর্থ হচ্ছে জাতীয়ভাবে একটি বার্তা দেওয়া-দল মাঠে নেমেছে, লড়াই শুরু হয়ে গেছে। গণমাধ্যমের দৃষ্টিও সহজে সিলেটের কর্মসূচির দিকে যায়। ফলে প্রচারণার প্রথম দিনেই দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা সম্ভব হয়,।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রবাসী ভোট। সিলেট অঞ্চলের বড় একটি জনগোষ্ঠী যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। তারা সরাসরি ভোট না দিলেও অর্থনৈতিক সহায়তা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কারণে দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট থেকে শুরু করলে সেই বার্তাটি প্রবাসীদের কাছেও পৌঁছে যায়,।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেটকে বেছে নেওয়ার পেছনে আবেগ ও কৌশলের মিশ্রণ রয়েছে। এটি শুধু একটি শহর নয়, বরং একটি প্রতীক। সেই প্রতীক ব্যবহার করেই দলগুলো জাতীয় নির্বাচনের লড়াই শুরু করতে চায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনৈতিক বার্তা এবং কৌশলগত সুবিধা এই চার কারণেই বারবার সিলেট থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনী প্রচারণা,।
দীর্ঘ ২১ বছর পর বুধবার পুণ্যভূমি সিলেটের মাটিতে পা রেখেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।

এর পর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় সিলেট নগরের আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে এক সমাবেশের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান,।
এদিকে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম সিলেট সফরে এলেন তারেক রহমান,।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ