Sobujbangla.com | কতদিন দখলমুক্ত থাকবে ওসমানী হাসাতাল।
News Head

কতদিন দখলমুক্ত থাকবে ওসমানী হাসাতাল।

  |  ২০:০৮, অক্টোবর ০৯, ২০২১

অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় ও প্রধান চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানে পদে পদে সেবাগ্রহীতাদের সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। যেমন গেইট পাসের নামে হয়রানি, প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি, রোগী নিয়ে টানাহেঁচড়াসহ আরও নানা ঝুটঝামেলা। এসবের সাথে অবৈধভাবে গড়ে উঠা পার্কিং ও অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড দিনে দিনে সেবা প্রার্থীদের জন্য রীতিমতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তা উচ্ছেদ করা হলেও ফের দখল হতে যে ক’দিন লাগবে এখন সেই হিসাব নিকাশে ব্যস্ত সচেতন মহল। ওসমানী হাসপাতালের মূল ফটকের ভেতরে অবৈধ স্ট্যান্ডবাজীর সাথে জড়িত হাসপাতালটির সাথে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র। চক্রটি অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড গড়ে তুলে যেমন কাঁচা টাকা কামাই করে, তেমনি তারা রোগী ও তাদের স্বজনদের বারবার হয়রানির মুখে ফেলে। এমন অভিযোগ অনেক পুরানো। মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করলেও তা বেশিদিন কার্যকর থাকেনা। আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তাছাড়া নগরীর অনেক চিহ্নিত ছিনতাইকারী, পকেট চোরদের নিয়মিত আড্ডাও বসত এই স্ট্যান্ডে। হাসপাতালটি মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠা অবৈধ স্ট্যান্ডই শুধু নয়, এর সাথে রয়েছে অবৈধ চায়ের দোকান। হাসপাতালের চলাচলের বেশিরভাগ জায়গা দখল করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় অসংখ্য কার, মিনিবাস, অটোরিকশা ইত্যাদি। জানা গেছে, একটি চক্র এই স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত ভাড়াও আদায় করে নানা অজুহাতে। এসব অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। অম্বুলেন্স স্ট্যান্ডের চালক ও তাদের নিযুক্ত দালালরা রোগী পরিবহনের নামে স্বজনদের পকেট কাটে। এমনকি দরদামে বনিবনা না হলেও দুর্ভোগ। অনেক সময় অ্যাম্বলেন্সের চালক, হেল্পার ও তাদের দালারা চড়াও হন স্বজনদের উপর। তাছাড়া নিজেরাও গাড়ি দাঁড় করানোর নামে বা সিরিয়ালের নামে বাদানুবাদ, কখনো কখনো সংঘর্ষেও লিপ্ত হওয়ারও খবর পাওয়া যায়। এতে হাসপতালের পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একাধিক সুত্রে জানা গেছে, স্ট্যান্ডের সাথে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের পাশাপাশি, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলও জড়িত। জড়িত ওসমানী হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারিদেরও একাংশ। এ কারণে বারবার উচ্ছেদের পরও আবারও স্ট্যান্ডের কার্যক্রম শুরু হয়। বৃহস্পতিবারের উচ্ছেদ অভিযানের পর হাসপাতালটির সাথে জড়িত সচেতন মহলের প্রশ্ন, অভিযান শেষ হয়েছে। উচ্ছেদও হয়েছে। আগেও একাধিকবার এমন উচ্ছেদ হলেও পরে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আবারও স্ট্যান্ড বাণিজ্য চলেছে বহাল তবিয়তে। আবারও কি দখলদাররা ফিরে আসবে ওসমানীতে- এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ