Sobujbangla.com | মৌলভীবাজারে বেড়েছে শীত, ভোগান্তিতে চা শ্রমিকরা
News Head
 বদলাবে প্রশ্নপত্রের ধরন, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা ১২ ডিসেম্বর। আওয়ামী লীগের কেউই রেহাই পাবে না:চিফ প্রসিকিউটর। তুরস্কের সাথে বৈঠক করলেন এনসিপির নেতারা। জাতীয় নির্বাচনে ১৫০ পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায় ইইউ। বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ভারত। শাপলা’ প্রতীকের দাবিতে অনড় দলটি, ইসির চিঠির জবাব দেবে এনসিপি, বাংলাদেশিদের ভিসা সহজ করতে অনুরোধ আমিরাতে কর্মসংস্থান। ধর্মের ভিত্তিতে জাতির বিভাজন দেখতে চায় না জামায়াতে ইসলামী। জনগণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন।

মৌলভীবাজারে বেড়েছে শীত, ভোগান্তিতে চা শ্রমিকরা

  |  ১৯:২৬, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৯

সবুজ বন, পাহাড় ও হাওর বেষ্টিত মৌলভীবাজারে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। গত কয়েক দিনের শীতে ভোগান্তি বেড়েছে চা শ্রমিকসহ ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসে সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন থেকেই জেঁকে বসেছে শীত। এর মধ্যে তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালেও সর্বশেষ মঙ্গলবার তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেই সঙ্গে আকাশে মেঘ থাকায় সূর্যের আলো সময়ে সময়ে দেখা দিলেও বেশিরভাগ সময় আড়ালেই থাকছে সূর্য। সূর্যের আলো না থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. আনিছুর রহমান জানান, আকাশে প্রচুর মেঘ রয়েছে যার কারণে স্বাভাভিকের চেয়েও বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। যদি মেঘ কেটে যায় তাহলে ঠান্ডা কমে আসবে।
এদিকে শীতের প্রকোপে ও হিমেল হাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে জেলার ৯২টি চা বাগানের পাঁচ লাখ চা জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। শেষ বিকেল থেকে ঘন কুয়াশা শুরু হয়ে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি আকারে তা নেমে আসছে। শীতের প্রকোপ আর কুয়াশার কারণে কোনো দিন দুপুর পর্যন্ত আবার কোনো দিন সারাদিনও দেখা মিলছে না সূর্যের। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই শুরু হওয়া ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় নাকাল হয়ে পড়ছে জনজীবন।
চা বাগানগুলোতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে কম্বল বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভোজন কৌরি।
সরেজমিনে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডে ভর্তি আছে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুরা।
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এম এম হক বলেন, ঠান্ডার কারণে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ডাইরিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা।
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রত্নদ্বীপ বিশ্বাস তীর্থ বলেন, গত ১০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নেয়া রোগীদের বেশির ভাগ ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। এর মধ্যে গত ১০ দিনে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৫২০ জন ।
এদিকে জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে- মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় শীতার্তদের মাঝে এখন পর্যন্ত ৪১ হাজার ২০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মল্লিকা দে বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত আছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র মজুত রয়েছে। সামনে আরও শীতবস্ত্র আসবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ